← অধ্যায় ২
📖 লেকচার: দ্বিতীয় অধ্যায়: কম্পিউটার নেটওয়ার্ক
পাঠ ৮: নেটওয়ার্কের ধারণা
দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে যোগাযোগের কোনো মাধ্যম দিয়ে একসাথে জুড়ে দিলে যদি তারা নিজেদের ভেতর তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে, তাহলে তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।
নেটওয়ার্কের মৌলিক উপাদান
- ▸সার্ভার (Server): শক্তিশালী কম্পিউটার যা নেটওয়ার্কের অন্য কম্পিউটারকে সেবা দেয়
- ▸ক্লায়েন্ট (Client): যে কম্পিউটার সার্ভার থেকে তথ্য নেয়
- ▸মিডিয়া (Media): তার, কো-এক্সিয়াল তার, অপটিক্যাল ফাইবার, ওয়্যারলেস
- ▸নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC): কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে
- ▸রিসোর্স (Resource): প্রিন্টার, ফ্যাক্স, সফটওয়্যার ইত্যাদি
- ▸ইউজার (User): ব্যবহারকারী
- ▸প্রটোকল (Protocol): যোগাযোগের নিয়ম (যেমন: HTTP)
পাঠ ৯: টপোলজি
নেটওয়ার্ক টপোলজি হলো নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলোকে যুক্ত করার পদ্ধতি।
নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (আয়তন অনুসারে)
- ▸PAN (Personal Area Network): ব্যক্তিগত পর্যায়ের নেটওয়ার্ক (ব্লুটুথ)
- ▸LAN (Local Area Network): স্কুল, কলেজ, অফিসের নেটওয়ার্ক
- ▸MAN (Metropolitan Area Network): শহরব্যাপী নেটওয়ার্ক
- ▸WAN (Wide Area Network): দেশ বা পৃথিবীব্যাপী নেটওয়ার্ক
নেটওয়ার্ক টপোলজির প্রকারভেদ
- ▸বাস টপোলজি: একটি মূল ব্যাকবোনের সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত — মূল লাইন নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অকেজো
- ▸রিং টপোলজি: প্রতিটি কম্পিউটার দুটো কম্পিউটারের সাথে যুক্ত — একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক বিকল
- ▸স্টার টপোলজি: সব কম্পিউটার কেন্দ্রীয় হাব/সুইচের সাথে যুক্ত — হাব নষ্ট হলে নেটওয়ার্ক অচল
- ▸ট্রি টপোলজি: গাছের মতো কাঠামো — একাধিক স্টার টপোলজির সমন্বয়
- ▸মেশ টপোলজি: প্রতিটি কম্পিউটার অন্যসব কম্পিউটারের সাথে যুক্ত (কমপ্লিট মেশ)
- ▸হাইব্রিড টপোলজি: দুই বা ততোধিক টপোলজির সমন্বয়
পাঠ ১০-১১: নেটওয়ার্কের ব্যবহার
নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য ভাগাভাগি, সফটওয়্যার ব্যবহার, ক্লাউড কম্পিউটিং, সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন, রাষ্ট্রপরিচালনা ও নিরাপত্তা — সবকিছুই সম্ভব হয়েছে।
নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার
- ▸তথ্য ভাগাভাগি ও ডাটাবেস ব্যবহার
- ▸সফটওয়্যার শেয়ারিং (সার্ভারে রেখে ব্যবহার)
- ▸ক্লাউড কম্পিউটিং: Hotmail, Yahoo, Gmail, Dropbox
- ▸সামাজিক নেটওয়ার্ক: Facebook, Twitter (X)
- ▸ই-টিকিট: বিমানের টিকিট অনলাইনে
- ▸ভিডিও কনফারেন্সিং ও টেলিফোন
- ▸বিনোদন: সিনেমা ডাউনলোড, অনলাইন গেমিং
- ▸রাষ্ট্রপরিচালনা ও নিরাপত্তা
পাঠ ১২: নেটওয়ার্ক-সর্বশ্রেষ্ঠ যন্ত্রপাতি
নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।
হাব (Hub)
- ▸একাধিক আইসিটি যন্ত্রকে একসাথে যুক্ত করে
- ▸হাব ডাটা পড়তে পারে না — সব যন্ত্রে ডাটা পাঠিয়ে দেয়
- ▸বর্তমানে কম গতি ও কম সুবিধার কারণে ব্যবহার কমেছে
সুইচ (Switch)
- ▸হাবের মতো কিন্তু প্রতিটি যন্ত্রকে পৃথকভাবে শনাক্ত করতে পারে
- ▸MAC Address ব্যবহার করে নির্দিষ্ট যন্ত্রে ডাটা পাঠায়
- ▸হাবের চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে কাজ করে
রাউটার (Router)
- ▸ডাটা বা উপাত্তকে পথ নির্দেশনা দেয়
- ▸একই প্রোটোকলের অধীনে দুইটি নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে
- ▸ডাটা প্যাকেটকে গন্তব্যে পৌঁছানোর সর্বোত্তম পথ দেখায়
পাঠ ১৩: নেটওয়ার্ক-সর্বশ্রেষ্ঠ আরও কিছু যন্ত্রপাতি
মডেম (Modem)
- ▸Modulator + Demodulator = Modem
- ▸ডিজিটাল সিগনালকে অ্যানালগে ও অ্যানালগকে ডিজিটালে রূপান্তর করে
- ▸DSL মডেম ও Wi-Fi মডেম বর্তমানে জনপ্রিয়
ল্যান কার্ড (LAN Card)
- ▸কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার জন্য আবশ্যক
- ▸মাদারবোর্ডের সাথে বিল্ট-ইন থাকে
- ▸তারের ও ওয়্যারলেস — দুই ধরনের হয়
পাঠ ১৪: স্যাটেলাইট ও অপটিক্যাল ফাইবার
দূরবর্তী যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট ও অপটিক্যাল ফাইবার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
স্যাটেলাইট
- ▸জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট: ৩৬,০০০ কিমি উচ্চতায় অবস্থান করে
- ▸১৯৬৪ সালে প্রথম জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট স্থাপন
- ▸বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১: ২০১৮ সালের ১২ই মে উৎক্ষেপিত
- ▸বড় এন্টেনার প্রয়োজন ও সিগন্যালে বিলম্ব — এ duas সমস্যা
অপটিক্যাল ফাইবার
- ▸প্লাস্টিক/কাচের তন্তু, আলোক সিগন্যাল পরিবহন করে
- ▸পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন নীতিতে কাজ করে
- ▸একসাথে কয়েক লক্ষ টেলিফোন কল পরিবহন সম্ভব
- ▸সাবমেরিন ক্যাবল: সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে সংযোগ (SEA-ME-WE-4, SEA-ME-WE-5)
- ▸স্যাটেলাইটের তুলনায় কম বিলম্ব (লেটেন্সি)