📖 লেকচার: প্রথম অধ্যায়: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব
পাঠ ১: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বর্তমান বিশ্বের একটি অপরিহার্য অংশ। নীলিমা ও তার পরিবারের গল্প থেকে আমরা ICT-এর গুরুত্ব বুঝতে পারি। নীলিমার ভাই হুমায়ুন ঢাকায় চাকরি করেন এবং তিনি ল্যাপটপ ও মডেমের সাহায্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাড়ি বসেই বিসিএস পরীক্ষার আবেদন করতে পারেন। এছাড়া তিনি ট্রেনের টিকিট কাটতেও স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না — সবকিছুই অনলাইনে করা যায়।
ICT-এর মূল সুবিধাসমূহ
- ▸ঘরে বসে সরকারি কাজ সম্পাদন (যেমন: বিসিএস আবেদন)
- ▸অনলাইনে টিকিট ক্রয়
- ▸মোবাইল ফোনে টাকা পাঠানো ও গ্রহণ
- ▸পরীক্ষার ফলাফল মোবাইল ফোনে জানা
পাঠ ২: কর্মসৃজন ও কর্মপ্রাপ্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশের ফলে সনাতনী কাজ বিলুপ্ত হলেও অসংখ্য নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ড. ইকবাল কাদিরের মতে — "সংযুক্তিই উৎপাদনশীলতা" (Connectivity is Productivity)।
ICT-এর কারণে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র
- ▸মোবাইল কোম্পানিতে কাজের সুযোগ
- ▸মোবাইল ফোনসেট বিক্রয়, বিপণন ও রক্ষণাবেক্ষণ
- ▸মোবাইল সেবা প্রদান (বিল পরিশোধ কেন্দ্র)
- ▸মোবাইল ব্যাংকিং-এর মতো নতুন খাত সৃষ্টি
- ▸আউটসোর্সিং (Outsourcing): www.upwork.com, www.freelancer.com
কর্মপ্রাপ্তিতে ICT-এর ভূমিকা
- ▸জবসাইট (bdjobs.com, careerjet.com.bd) এর মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞপ্তি
- ▸ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
- ▸ই-মেইল বা এসএমএস-এর মাধ্যমে চাকরির খবর
পাঠ ৩: যোগাযোগ
যোগাযোগের পদ্ধতি প্রধানত দুই প্রকার: একমুখী (Broadcast) ও দ্বিমুখী।
একমুখী যোগাযোগ (Broadcast)
- ▸রেডিও, টেলিভিশন — যেখানে এক প্রান্ত থেকে তথ্য প্রচার করা হয়
- ▸খবরের কাগজ ও ম্যাগাজিন
- ▸অনলাইন পত্রিকা
দ্বিমুখী যোগাযোগ
- ▸টেলিফোন ও মোবাইল ফোন
- ▸ইমেইল (Email)
- ▸সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Social Media)
ওয়েব কনফারেন্সিং
- ▸ভিডিও কনফারেন্সিং: জুম, গুগল মিট, মাইক্রোসফট টিম, ফেসটাইম, স্কাইপ
- ▸অডিও কনফারেন্সিং: আইপি টেলিফোন
- ▸ফাইল, স্ক্রিন ও অ্যাপ্লিকেশন শেয়ারিং
- ▸হোয়াইট বোর্ড, সভা রেকর্ডিং, এনক্রিপশন
পাঠ ৪: ব্যবসায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব
ICT ব্যবসা-বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন এনেছে। এটি খরচ কমাতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং যোগাযোগ উন্নত করতে সাহায্য করে।
ব্যবসায় ICT-এর প্রয়োগ
- ▸মজুদ নিয়ন্ত্রণ: বিশেষায়িত সফটওয়্যার ব্যবহার করে পণ্যের মজুদ নিয়ন্ত্রণ
- ▸উৎপাদন ব্যবস্থাপনা: স্বয়ংক্রিয়করণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি
- ▸উন্নত যোগাযোগ: মোবাইল, ফ্যাক্স, ইমেইল, ইন্টারনেট, ইন্ট্রানেট
- ▸সঠিক হিসাব: স্প্রেডশিট ও ডেটাবেস সফটওয়্যার
- ▸বিপণন: বাজার বিশ্লেষণ, প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে তথ্য, জিপিএস, প্রচার
- ▸ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব সেল (EPOS)
- ▸মূল্য সংগ্রহ: ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং
পাঠ ৫: সরকারি কর্মকাণ্ডে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগ
সরকারি সকল কাজেই ICT-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ রয়েছে।
সরকারি কার্যক্রমে ICT-এর ব্যবহার
- ▸সরকারি তথ্যাদি প্রকাশ: জাতীয় ওয়েব পোর্টাল (www.bangladesh.gov.bd)
- ▸আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে জনমত গ্রহণ
- ▸SMS-এর মাধ্যমে জরুরি বার্তা প্রচার
- ▸ই-পার্চা: জমি রেকর্ড অনলাইনে সংগ্রহ
- ▸ই-বুক: www.nctb.gov.bd-এ পাঠ্যপুস্তক
- ▸ই-পূর্জি: চিনিকলের পূর্জি মোবাইল ফোনে
- ▸ই-স্বাস্থ্যসেবা: টেলিমেডিসিন
- ▸অনলাইনে আয়কর রিটার্ন
- ▸অনলাইন ব্যাংকিং ও টাকা স্থানান্তর
- ▸অনলাইনে ট্রেন, বাস, বিমানের টিকিট
উদাহরণ: RTSC-এর স্বয়ংক্রিয়করণ
- ▸নামের ছাড়পত্র: পূর্বে ৭ দিন, এখন ৩০ মিনিট
- ▸নিবন্ধন: পূর্বে ৩০ দিন, এখন ৪ দিন
- ▸অফিসে যাতায়াত: পূর্বে কমপক্ষে ছয়বার, এখন একবারও নয়
পাঠ ৬: চিকিৎসা
ICT চিকিৎসা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও গবেষণা — সব ক্ষেত্রেই ICT-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
চিকিৎসায় ICT-এর প্রয়োগ
- ▸টেলিমেডিসিন: ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে স্বাস্থ্যসেবা
- ▸CT Scan, MRI, PET Scan-এর মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি
- ▸ডাটাবেসে রোগীর তথ্য সংরক্ষণ
- ▸জিনোম গবেষণা: জটিল রোগের কারণ নির্ণয়
- ▸ভবিষ্যতে: দূর থেকে সার্জারি, ব্যক্তিগতকৃত ঔষধ
পাঠ ৭: গবেষণা
ICT গবেষণার জগতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, বিশ্লেষণ ও প্রদর্শন — সবকিছুই এখন কম্পিউটার ও ICT-এর সাহায্যে করা হয়।
গবেষণায় ICT-এর প্রয়োগ
- ▸তাত্ত্বিক গবেষণা: ডাটাবেস ও তথ্যভাণ্ডারের সাথে যোগাযোগ
- ▸ব্যবহারিক গবেষণা: ল্যাবরেটরিতে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতি
- ▸মাইক্রোকন্ট্রোলার, FPGA, PLA-এর ব্যবহার
- ▸ভার্চুয়াল ল্যাবরেটরি (Virtual Laboratory)
- ▸শক্তিশালী বিশেষায়িত কম্পিউটারের ব্যবহার